ব্যক্তির আকৃতি, গঠন, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শিক্ষণ, বুদ্ধি, চরিত্র, অভ্যাস, মেজাজ, আচার-আচরণ, অনুভূতি, মনোভাব, প্রেষণা, তাড়না, প্রবনতা, উপলব্দি, আকাঙ্খা, আবেগ, আগ্রহ, অনুরাগ, দৃষ্টিভঙ্গী, মূল্যবোধ, আদর্শ ও বিশ্বাস সবকিছুর সমন্বিত রূপই ব্যক্তিত্ব। যা তাকে অনন্যতা দান করে। মনোবিজ্ঞানী ক্রাইডার এবং অন্যান্যদের মতে- “ব্যক্তিত্ব হল ব্যক্তির মনোদৈহিক প্রক্রিয়া সমূহের এক গতিময় সংগঠন যা পরিবেশের সাথে তার অনুপম অভিযোজন নির্ধারন করে।” এছাড়াও অন্যান্য মনোবিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে ব্যক্তিত্বের ধারনা প্রদান করেছেন। সার কথা হল- কতগুলো বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর সংগঠনকে ব্যক্তিত্ব বলে। জৈব, মানসিক, সামাজিক বিষয়াবলীর পারস্পরিক ক্রিয়া ব্যক্তিত্ব সংগঠনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
দেহের রাসায়নিক ক্রিয়া ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে তা অস্বীকার করা যায়না। মনোবিজ্ঞানীরা একমত যে, ঔষধ, রক্তের উপাদানের বিশেষ হার, খাদ্য, ব্যাধি এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির রসক্ষরণের প্রভাব ব্যক্তিত্বের বিকাশের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। যেমন, যাতনা নিবারক ঔষধ সমূহে মস্তিষ্কের ক্রিয়া নিস্তেজ করে এবং শক্তির অপচয় করে। সূরাসার মস্তিষ্কের নিয়ামক ক্ষমতা নিস্তেজ করিয়া আপাত মধুর উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মরফিন আরামদায়ক স্বপ্নাবেশ সৃষ্টি করে। রক্তে শর্করার হ্রাস-বৃদ্ধিতে মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। উপযুক্ত খাদ্য উপাদানের অভাব ঘটিলে আমাদের দেহ ও মনের স্বাভাবিক সুস্থ্যতা ব্যাহত হয়। হৃদরোগ, পাকাশয়িক গোলযোগ, সিফিলিস, পক্ষাঘাত, নিদ্রাহীনতা, অকালবার্ধক্য প্রভৃতি ব্যাধি দেহকে বিপর্যস্ত করিয়া মনের অবসন্নতা আনয়ন করে। কাজেই সেসব ব্যক্তি সকল অবস্থার সহিত সামঞ্জস্য বিধান করিতে পারেনা। তাই বলা যায় ব্যাধিও ব্যক্তিত্বের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
গ্রন্থিরস ব্যক্তিত্বের উপর অনেকটা প্রভাব বিস্তার করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি সমূহ যেমন,- লালাগ্রন্থি, স্বেদগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি, মূত্রগ্রন্থি ও যৌনগ্রন্থি প্রয়োজনীয় রস বাহির করিয়া দিয়া দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া বজায় রাখে। এই সমস্ত গ্রন্থির ক্রিয়ায় বৈলক্ষণ্য দেখা দিলে ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তন ঘটে ও তাহার ব্যক্তিত্ব প্রভাবিত হয়। বহিঃক্ষরা গ্রন্থির তুলনায় অন্তক্ষরা গ্রন্থির (Endocrine Gland) রসক্ষরণ বা নিঃসৃত হরমোন ব্যক্তিত্বের উপর অধিক প্রভাব বিস্তার করে। এই গ্রন্থি গুলির ক্ষরিত রস দেহের রক্তে মিশিয়া শরীরের বিবিন্ন অংশে ছড়াইয়া পড়ে। নিম্নে প্রধান অন্তক্ষরা গ্রন্থিসমূহের বিষয় আলোচিত হইল। এইগুলির স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক ক্রিয়ার ও নিঃসরনের উপর ব্যক্তির স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) : থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরিত রসকে বলে থাইরক্সিন। থাইরক্সিন কম ক্ষরিত হইলে মানুষ ক্ষুদ্রকায়, দুর্বল ও অবসন্ন হয়। আর বেশি ক্ষরিত হইলে মাইক্সিডেমা নামক রোগ হয় এবং ব্যক্তিকে অস্থির, চঞ্ছল ও বিমর্ষ করিয়া তোলে।
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal Gland) : তার ক্ষরিত রসের নাম এড্রিনিন। এড্রিনিন বেশি ক্ষরিত হইলে ত্বক পুরু, চুল রুক্ষ্ম ও শুষ্ক এবং দাঁত বড় হইয়া থাকে। ইহা ব্যক্তিকে সাহসী করিয়া তোলে। নারীদের মধ্যে এই রসের প্রভাব কম। এই রস কম ক্ষরিত হইলে স্নায়বিক দৌর্বল্য আসে।
প্রজনন গ্রন্থি (Sex Gland) : এই গ্রন্থি রসের প্রভাবেই পুরুষত্ব ও নারীত্ব নির্ধারিত হয়।
পিটুইটারী গ্রন্থি (Pituitary Gland) : এই গ্রন্থির রস ক্ষরণের প্রাধান্য অনুসারে পৌরুষ, শারীরিক বিকাশ ও মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ে। এই গ্রন্থির রস কম ক্ষরিত হইলে জননেন্দ্রিয়ের ক্ষুদ্রতা, চেহারার খর্বতা, নির্বুদ্ধিতা ও সর্বাঙ্গীন অবনতি ঘটে।
তাই বলা যায় এই সকল অন্তক্ষরা গ্রন্থির রসক্ষরণ মানুষের ব্যক্তিত্বের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তিত্বের মাপকাঠি বিভিন্ন হওয়ায় ব্যক্তিত্বের শ্রেণীকরণ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানীরা একমত নন। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন শ্রেণীকরণ করেছেন। পরবর্তী পোস্টে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ্। (চলবে)
দেহের রাসায়নিক ক্রিয়া ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে তা অস্বীকার করা যায়না। মনোবিজ্ঞানীরা একমত যে, ঔষধ, রক্তের উপাদানের বিশেষ হার, খাদ্য, ব্যাধি এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির রসক্ষরণের প্রভাব ব্যক্তিত্বের বিকাশের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। যেমন, যাতনা নিবারক ঔষধ সমূহে মস্তিষ্কের ক্রিয়া নিস্তেজ করে এবং শক্তির অপচয় করে। সূরাসার মস্তিষ্কের নিয়ামক ক্ষমতা নিস্তেজ করিয়া আপাত মধুর উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মরফিন আরামদায়ক স্বপ্নাবেশ সৃষ্টি করে। রক্তে শর্করার হ্রাস-বৃদ্ধিতে মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। উপযুক্ত খাদ্য উপাদানের অভাব ঘটিলে আমাদের দেহ ও মনের স্বাভাবিক সুস্থ্যতা ব্যাহত হয়। হৃদরোগ, পাকাশয়িক গোলযোগ, সিফিলিস, পক্ষাঘাত, নিদ্রাহীনতা, অকালবার্ধক্য প্রভৃতি ব্যাধি দেহকে বিপর্যস্ত করিয়া মনের অবসন্নতা আনয়ন করে। কাজেই সেসব ব্যক্তি সকল অবস্থার সহিত সামঞ্জস্য বিধান করিতে পারেনা। তাই বলা যায় ব্যাধিও ব্যক্তিত্বের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
গ্রন্থিরস ব্যক্তিত্বের উপর অনেকটা প্রভাব বিস্তার করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি সমূহ যেমন,- লালাগ্রন্থি, স্বেদগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি, মূত্রগ্রন্থি ও যৌনগ্রন্থি প্রয়োজনীয় রস বাহির করিয়া দিয়া দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া বজায় রাখে। এই সমস্ত গ্রন্থির ক্রিয়ায় বৈলক্ষণ্য দেখা দিলে ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তন ঘটে ও তাহার ব্যক্তিত্ব প্রভাবিত হয়। বহিঃক্ষরা গ্রন্থির তুলনায় অন্তক্ষরা গ্রন্থির (Endocrine Gland) রসক্ষরণ বা নিঃসৃত হরমোন ব্যক্তিত্বের উপর অধিক প্রভাব বিস্তার করে। এই গ্রন্থি গুলির ক্ষরিত রস দেহের রক্তে মিশিয়া শরীরের বিবিন্ন অংশে ছড়াইয়া পড়ে। নিম্নে প্রধান অন্তক্ষরা গ্রন্থিসমূহের বিষয় আলোচিত হইল। এইগুলির স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক ক্রিয়ার ও নিঃসরনের উপর ব্যক্তির স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) : থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরিত রসকে বলে থাইরক্সিন। থাইরক্সিন কম ক্ষরিত হইলে মানুষ ক্ষুদ্রকায়, দুর্বল ও অবসন্ন হয়। আর বেশি ক্ষরিত হইলে মাইক্সিডেমা নামক রোগ হয় এবং ব্যক্তিকে অস্থির, চঞ্ছল ও বিমর্ষ করিয়া তোলে।
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal Gland) : তার ক্ষরিত রসের নাম এড্রিনিন। এড্রিনিন বেশি ক্ষরিত হইলে ত্বক পুরু, চুল রুক্ষ্ম ও শুষ্ক এবং দাঁত বড় হইয়া থাকে। ইহা ব্যক্তিকে সাহসী করিয়া তোলে। নারীদের মধ্যে এই রসের প্রভাব কম। এই রস কম ক্ষরিত হইলে স্নায়বিক দৌর্বল্য আসে।
প্রজনন গ্রন্থি (Sex Gland) : এই গ্রন্থি রসের প্রভাবেই পুরুষত্ব ও নারীত্ব নির্ধারিত হয়।
পিটুইটারী গ্রন্থি (Pituitary Gland) : এই গ্রন্থির রস ক্ষরণের প্রাধান্য অনুসারে পৌরুষ, শারীরিক বিকাশ ও মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ে। এই গ্রন্থির রস কম ক্ষরিত হইলে জননেন্দ্রিয়ের ক্ষুদ্রতা, চেহারার খর্বতা, নির্বুদ্ধিতা ও সর্বাঙ্গীন অবনতি ঘটে।
তাই বলা যায় এই সকল অন্তক্ষরা গ্রন্থির রসক্ষরণ মানুষের ব্যক্তিত্বের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তিত্বের মাপকাঠি বিভিন্ন হওয়ায় ব্যক্তিত্বের শ্রেণীকরণ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানীরা একমত নন। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন শ্রেণীকরণ করেছেন। পরবর্তী পোস্টে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ্। (চলবে)
******************************************
******************************************
******************************************
******************************************






যারা নিজেরা লিখতে জানেননা, অন্যের লেখা কপি করে নিজের নামে চালায় তারা চোর ছাড়া আর কি? এই সাইটের বেশিরভাগ লেখাই আমার সাইট থেকে চুরি করা। এমনকি হেডিং স্ক্রল লাইনের বাংলা লেখাটিও হুবহু আমার আরেকটি ব্লগের। তাছাড়া দুইপাশের কলামের লেখাগুলিও অবিকল আমার নিজের। এছাড়া আমার সামহয়্যারইন ব্লগের লেখাও তিনি হুবহু চুরি করেছেন। নিচের লিঙ্কে প্রমান দেখুন-
ReplyDeletehttps://shahidmridha.wordpress.com/2013/04/28/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0/
http://shahidmridha.blogspot.com/
http://www.somewhereinblog.net/blog/shahidmridha/29520467