সনাতন ধর্মে জ্যোতিষকে বলা হয়েছে বেদের চক্ষু স্বরূপ । তাদের বহু আচার-অনুষ্ঠানের সাথে জ্যোতিষ সরাসরি জড়িত । ইসলাম ধর্মে তকদীর একটি অনিবার্য বিষয়, লাউহে মাহফুজে সংরক্ষিত অত্যন্ত গোপনীয় বিষয় । যা একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালাই জানেন, তার নিকটতম ফেরেশতারাও সে সম্পর্কে অজ্ঞ । কোন নবী-রাসুল (আঃ), এমনকি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত তকদীরের গোপনীয়তা সম্পর্কে জানতেন না । কোন সৃষ্টির পক্ষেই সেই গোপনীয়তা সম্পর্কে জানা সম্ভব নয় । আর একথা অবিশ্বাস করলে, কিংবা তকদীরের গোপনীয়তা জানে বললে সে সঙ্গে সঙ্গে কাফের হয়ে যাবে শরীয়ত মতে । হাদীস শরীফে তকদীর সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করাও নিষেধ আছে । সার কথা হল, ইসলামে তকদীর, নসীব, ভাগ্য, নিয়তী, কপাল, ফেট, ফরচুন বলতে যা বুঝি- সে সম্পর্কে জানা, জানতে চাওয়া, জানি বলা, কাউকে জানানো ইত্যাদি সবই মহাপাপ । প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী হেফাজতের জন্য এসব থেকে দূরে থাকতে হবে, এবং এসব নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদেরকে প্রতিহত করাও ঈমানী দ্বায়ীত্ব ।
জ্যোতিষবিদ্যার আড়ালে ভন্ড-প্রতারকেরা ফায়দা লুটছে । আসলে জ্যোতিষবিদ্যা- তকদীর, নসীব, ভাগ্য, নিয়তী, কপাল, ফেট, ফরচুন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ । যারা জ্যোতিষবিদ্যা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন তারা একথা অবশ্যই স্বীকার করবেন । আর যারা এ বিদ্যার গভীরে পৌঁছেননি, তারা তা বুঝেনওনি । আর যারা এ বিদ্যা অধ্যয়ন করেননি তাদেরতো জানার কথাই নয় । তারাতো প্রতারকদের জ্যোতিষ নামে ভাগ্য গণনার কথাই জেনে থাকবেন । সাধারন লোকের এই অজ্ঞতাটুকুর সুযোগই প্রতারকরা নিচ্ছে । আমি চেষ্টা করব পর্যায়ক্রমে জ্যোতিষবিদ্যার পরিচয় তুলে ধরতে ।
তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে- জ্যোতিষবিদ্যা কি ? আমি তার জবাবে বলব- জ্যোতিষ কারো ভাগ্য গণনার বিদ্যা নয়, প্রতারকদের ভাগ্য গঠনের বিদ্যা হতে পারে । জ্যোতিষ অনিবার্য কিছু জানেনা, শুধুই সম্ভাবনার কথা বলে । চিকিৎসাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, আবহাওয়াবিজ্ঞান ইত্যাদির মত শুধুই সম্ভাবনার বিশ্লেষণ করতে পারে । চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, আবহাওয়াবিদ যেমন কিছু লক্ষণ, কিছু সূত্র, কিছু হিসাব বিশ্লেষণ করে সম্ভাবনার কথা বলেন; তেমনি জ্যোতিষবিদ্যাও কিছু লক্ষণ, কিছু সূত্র, কিছু হিসাব ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সম্ভাবনার কথা বলেন । কোন জ্যোতিষী যদি অনিবার্য কিছু বলেন, তবে তা তার নিজের কথা, জ্যোতিষবিদ্যার নয় । আমার এই কথা যদি কোন জ্যোতিষী অস্বীকার করতে চান তবে অনুগ্রহকরে তিনি যেন আমার মেইলের মাধ্যমে কিংবা কোন ব্লগে পোস্টের মাধ্যমে জ্যোতিষবিদ্যার অনিবার্যতার প্রমান প্রদান করেন ।
কেউ কেউ হয়ত বলবেন, আমাকে জ্যোতিষী যা বলেছিল আমার জীবনে তা হুবহু ফলে গেছে বা মিলে গেছে । হ্যাঁ হুবহু ফলে যাওয়ার অজস্র ঘটনা আছে । ফলে যায় বা মিলে যায় বলেইত এ বিদ্যা হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে । তারমধ্যে একটিও যদি না ফলে তাহলেইত তাকে অনিবার্য বলতে পারিনা । যেজন্য চিকিৎসক বা আবহাওয়াবিদের কথাও অনিবার্য নয় । আর যা অনিবার্য নয়, তা তকদীর বা ভাগ্য নয় । কেননা ইসলামের বিশ্বাস অনুসারে সমগ্র সৃষ্টিজগতের তকদীর সৃষ্টিরও বহু পূর্বে "লাওহে মাহফুজ" নামক সংরক্ষিতস্থানে আল্লাহর হুকুমে সংরক্ষিত হয়েছে, যা সুনির্দিষ্ট এবং অনিবার্য ! যখন শুধুমাত্র আরশ, কুরসি, লাওহে, কলম সৃষ্টি করেছেন । আল্লাহ্ আরশে তার কুরসিতে আসীন হয়ে কলমকে হুকুম করেছেন লিখতে আর বিনা প্রশ্নে কলম লিখেছিল সমগ্র সৃষ্টিজগতের তকদীর ।
মানুষ, ফেরেশতা বা জ্বীন কারো পক্ষেই সেই লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত সুনির্দিষ্ট এবং অনিবার্য তকদীরলিপি পাঠ করা সম্ভব নয় । আশাকরি এ ব্যাপারে কোন মুসলমানের দ্বিমত থাকার কথা নয় । এখন তাহলে জিজ্ঞাসা করি, যেসব মুসলমান ভাগ্যগণনার কথা বলে তারা কি কুফরী করছেনা ? সেইসব জ্যোতিষী নামধারীদের ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীস শরীফেও সতর্ক করা হয়েছে, কুফরী বলা হয়েছে, জাহান্নামে যাবে বলা হয়েছে । কেননা এককালে জ্যোতিষী নামধারী বিধর্মী তান্ত্রিকগন শয়তানের সাধনা করতেন । শয়তান তখন ফেরেশতালোক থেকে গোপনতথ্য সংগ্রহ করে দুনিয়ায় তার সাধকদের কাছে পৌঁছে দিত । সে কারনেই সম্ভব হয়েছিল হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ) এর মত নবীদের জন্মের পূর্বেই নমরূদ বা ফেরআউনের জ্যোতিষীদের আগাম ভবিষদ্বাণী । যা পরবর্তীতে নমরূদ বা ফেরআউন শত চেষ্টা করেও প্রতিরোধ বা প্রতিহত করতে পারেনি । সেইসব জ্যোতিষীদের সম্পর্কেই কুফরী ও জাহান্নামের কথা বলা হয়েছে । আজকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চড়ম উৎকর্ষতার যুগেও সারাবিশ্বে তেমন একজন জ্যোতিষীকেও খুঁজে পাওয়া যাবে, যিনি কারো জন্মের পূর্বেই ভবিষদ্বাণী করতে পারেন- তিনি কবে, কোথায় জন্মিবেন এবং তার দ্বারা কি হতে পারে ? না, তেমন কেউ নেই । থাকলে ইন্টারনেটের বদৌলতে অবশ্যই তাকে আমরা পেতাম । এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই সবাই একমত হবেন । প্রশ্ন হতে পারে নেই কেন ? নেই এ জন্য যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের পূর্বেই তার আগমন নিরাপদ করতে আল্লাহ্ তায়ালা শয়তানের ফেরেশতালোকের যাতায়াত রহিত করেছেন ।
তাহলে দেখাযাচ্ছে সেইসব জ্যোতিষী আর আজকের জ্যোতিষী নামে এক হলেও কার্যক্রম একনয় । বিচারত করতে হবে কার্যক্রম দ্বারা, নাকি নাম দ্বারা ? যদি কার্যক্রম দ্বারা বিচার করি তবে বলতে হবে আজকের জ্যোতিষীর বিশ্লেষণের ভিত্ত্বি হল কারো জন্ম তারিখ, সময় ও স্থান । যা ব্যতীত জ্যোতিষবিদ্যা কিছুই বলতে পারেনা । হস্তরেখাবিদ্যাতে হাতের রেখা, গঠন, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি, আর সংখ্যাতত্ত্বেও জন্ম তারিখ, নাম ইত্যাদি । এসব কোন ভিত্ত্বি ব্যতীত কিছুই বলা সম্ভব নয় । অথচ, সেইসব জ্যোতিষীগণ কোন ভিত্ত্বি এমনকি অস্তিত্বও ব্যতীত নির্ভূল ভবিষদ্বাণী করেছিলেন শয়তানের সাহায্যে । ইতিহাস তার স্বাক্ষী, আমার কথা নয় ।
যারা উপরোল্লেখিত বিষয়গুলি বুঝবেন, তারা অবশ্যই বুঝবেন যে প্রকৃত জ্যোতিষবিদ্যা কোন ভাগ্যগণনার বিষয় নয়, এতে অনিবার্য কিছু নেই, শুধুই সম্ভাবনার কথা বলে এবং তা কোন ভিত্ত্বিহীন বা অস্তিত্ত্বহীন বিষয় নয় । প্রদত্ত তথ্যের ভিত্ত্বিতে প্রকৃত জ্যোতিষী কারো জীবনের সম্ভাবনার কথাই শুধু বলতে পারবেন, কোন অনিবার্য কথা বলতে পারবেননা । কারন, জগতের কোন বিদ্যা, কোন শাষ্ত্র, কোন বিজ্ঞান, কোনকিছুতেই অনিবার্যতা নেই । কোন চিকিৎসক তার রোগীর অনিবার্য পরিণতির কথা বলতে পারেননা । যা বলেন তার ব্যতিক্রমও হতে দেখাযায় । আবহাওয়াবিদ যা ঘোষনা দেন তারও ব্যতিক্রম হয় । তাইবলে কোন চিকিৎসক বা আবহাওয়াবিদকে দায়ী করা যায়না । কারন, তারা যা দেখেছেন তাই বলেছেন । তারা কোন ভুল বলেননি । আর অনিবার্যভাবে তাদের ভবিষদ্বাণী ফলে যায়নি বলে কোন প্রশ্নের সম্মুখিনতো হনইনি, আর তাদের গ্রহনযোগ্যতাও হারাননি । আধুনিক জ্যোতিষবিদ্যাও তদ্রুপ ।
পরিশেষে বলব, চিকিৎসা সেবা, আবহাওয়াবিদের সেবা কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য সেবা গ্রহণ বা প্রদান যদি গুনাহের কাজ নাহয়, তবে জ্যোতিষ সেবা গ্রহন বা প্রদানে গুনাহের কাজ হওয়ার কোন যুক্তি আছেকি ? সকলেইত মানবকল্যানে কাজ করছে । কোন জ্যোতিষীর ব্যক্তিগত পাপ জ্যোতিষবিদ্যার উপর চাপানো যায়না । আশাকরি বিবেকবান মাত্রেই একথাটি বুঝবেন । আগামীতে জ্যোতিষবিদ্যা কিভাবে মানবকল্যান করে এবং তকদীর সম্পর্কে ধর্ম কি বলে সেসব বিষয় নিয়ে লিখার আশারাখি ।
জ্যোতিষবিদ্যার আড়ালে ভন্ড-প্রতারকেরা ফায়দা লুটছে । আসলে জ্যোতিষবিদ্যা- তকদীর, নসীব, ভাগ্য, নিয়তী, কপাল, ফেট, ফরচুন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ । যারা জ্যোতিষবিদ্যা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন তারা একথা অবশ্যই স্বীকার করবেন । আর যারা এ বিদ্যার গভীরে পৌঁছেননি, তারা তা বুঝেনওনি । আর যারা এ বিদ্যা অধ্যয়ন করেননি তাদেরতো জানার কথাই নয় । তারাতো প্রতারকদের জ্যোতিষ নামে ভাগ্য গণনার কথাই জেনে থাকবেন । সাধারন লোকের এই অজ্ঞতাটুকুর সুযোগই প্রতারকরা নিচ্ছে । আমি চেষ্টা করব পর্যায়ক্রমে জ্যোতিষবিদ্যার পরিচয় তুলে ধরতে ।
তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে- জ্যোতিষবিদ্যা কি ? আমি তার জবাবে বলব- জ্যোতিষ কারো ভাগ্য গণনার বিদ্যা নয়, প্রতারকদের ভাগ্য গঠনের বিদ্যা হতে পারে । জ্যোতিষ অনিবার্য কিছু জানেনা, শুধুই সম্ভাবনার কথা বলে । চিকিৎসাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, আবহাওয়াবিজ্ঞান ইত্যাদির মত শুধুই সম্ভাবনার বিশ্লেষণ করতে পারে । চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, আবহাওয়াবিদ যেমন কিছু লক্ষণ, কিছু সূত্র, কিছু হিসাব বিশ্লেষণ করে সম্ভাবনার কথা বলেন; তেমনি জ্যোতিষবিদ্যাও কিছু লক্ষণ, কিছু সূত্র, কিছু হিসাব ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সম্ভাবনার কথা বলেন । কোন জ্যোতিষী যদি অনিবার্য কিছু বলেন, তবে তা তার নিজের কথা, জ্যোতিষবিদ্যার নয় । আমার এই কথা যদি কোন জ্যোতিষী অস্বীকার করতে চান তবে অনুগ্রহকরে তিনি যেন আমার মেইলের মাধ্যমে কিংবা কোন ব্লগে পোস্টের মাধ্যমে জ্যোতিষবিদ্যার অনিবার্যতার প্রমান প্রদান করেন ।
কেউ কেউ হয়ত বলবেন, আমাকে জ্যোতিষী যা বলেছিল আমার জীবনে তা হুবহু ফলে গেছে বা মিলে গেছে । হ্যাঁ হুবহু ফলে যাওয়ার অজস্র ঘটনা আছে । ফলে যায় বা মিলে যায় বলেইত এ বিদ্যা হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে । তারমধ্যে একটিও যদি না ফলে তাহলেইত তাকে অনিবার্য বলতে পারিনা । যেজন্য চিকিৎসক বা আবহাওয়াবিদের কথাও অনিবার্য নয় । আর যা অনিবার্য নয়, তা তকদীর বা ভাগ্য নয় । কেননা ইসলামের বিশ্বাস অনুসারে সমগ্র সৃষ্টিজগতের তকদীর সৃষ্টিরও বহু পূর্বে "লাওহে মাহফুজ" নামক সংরক্ষিতস্থানে আল্লাহর হুকুমে সংরক্ষিত হয়েছে, যা সুনির্দিষ্ট এবং অনিবার্য ! যখন শুধুমাত্র আরশ, কুরসি, লাওহে, কলম সৃষ্টি করেছেন । আল্লাহ্ আরশে তার কুরসিতে আসীন হয়ে কলমকে হুকুম করেছেন লিখতে আর বিনা প্রশ্নে কলম লিখেছিল সমগ্র সৃষ্টিজগতের তকদীর ।
মানুষ, ফেরেশতা বা জ্বীন কারো পক্ষেই সেই লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত সুনির্দিষ্ট এবং অনিবার্য তকদীরলিপি পাঠ করা সম্ভব নয় । আশাকরি এ ব্যাপারে কোন মুসলমানের দ্বিমত থাকার কথা নয় । এখন তাহলে জিজ্ঞাসা করি, যেসব মুসলমান ভাগ্যগণনার কথা বলে তারা কি কুফরী করছেনা ? সেইসব জ্যোতিষী নামধারীদের ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীস শরীফেও সতর্ক করা হয়েছে, কুফরী বলা হয়েছে, জাহান্নামে যাবে বলা হয়েছে । কেননা এককালে জ্যোতিষী নামধারী বিধর্মী তান্ত্রিকগন শয়তানের সাধনা করতেন । শয়তান তখন ফেরেশতালোক থেকে গোপনতথ্য সংগ্রহ করে দুনিয়ায় তার সাধকদের কাছে পৌঁছে দিত । সে কারনেই সম্ভব হয়েছিল হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ) এর মত নবীদের জন্মের পূর্বেই নমরূদ বা ফেরআউনের জ্যোতিষীদের আগাম ভবিষদ্বাণী । যা পরবর্তীতে নমরূদ বা ফেরআউন শত চেষ্টা করেও প্রতিরোধ বা প্রতিহত করতে পারেনি । সেইসব জ্যোতিষীদের সম্পর্কেই কুফরী ও জাহান্নামের কথা বলা হয়েছে । আজকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চড়ম উৎকর্ষতার যুগেও সারাবিশ্বে তেমন একজন জ্যোতিষীকেও খুঁজে পাওয়া যাবে, যিনি কারো জন্মের পূর্বেই ভবিষদ্বাণী করতে পারেন- তিনি কবে, কোথায় জন্মিবেন এবং তার দ্বারা কি হতে পারে ? না, তেমন কেউ নেই । থাকলে ইন্টারনেটের বদৌলতে অবশ্যই তাকে আমরা পেতাম । এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই সবাই একমত হবেন । প্রশ্ন হতে পারে নেই কেন ? নেই এ জন্য যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের পূর্বেই তার আগমন নিরাপদ করতে আল্লাহ্ তায়ালা শয়তানের ফেরেশতালোকের যাতায়াত রহিত করেছেন ।
তাহলে দেখাযাচ্ছে সেইসব জ্যোতিষী আর আজকের জ্যোতিষী নামে এক হলেও কার্যক্রম একনয় । বিচারত করতে হবে কার্যক্রম দ্বারা, নাকি নাম দ্বারা ? যদি কার্যক্রম দ্বারা বিচার করি তবে বলতে হবে আজকের জ্যোতিষীর বিশ্লেষণের ভিত্ত্বি হল কারো জন্ম তারিখ, সময় ও স্থান । যা ব্যতীত জ্যোতিষবিদ্যা কিছুই বলতে পারেনা । হস্তরেখাবিদ্যাতে হাতের রেখা, গঠন, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি, আর সংখ্যাতত্ত্বেও জন্ম তারিখ, নাম ইত্যাদি । এসব কোন ভিত্ত্বি ব্যতীত কিছুই বলা সম্ভব নয় । অথচ, সেইসব জ্যোতিষীগণ কোন ভিত্ত্বি এমনকি অস্তিত্বও ব্যতীত নির্ভূল ভবিষদ্বাণী করেছিলেন শয়তানের সাহায্যে । ইতিহাস তার স্বাক্ষী, আমার কথা নয় ।
যারা উপরোল্লেখিত বিষয়গুলি বুঝবেন, তারা অবশ্যই বুঝবেন যে প্রকৃত জ্যোতিষবিদ্যা কোন ভাগ্যগণনার বিষয় নয়, এতে অনিবার্য কিছু নেই, শুধুই সম্ভাবনার কথা বলে এবং তা কোন ভিত্ত্বিহীন বা অস্তিত্ত্বহীন বিষয় নয় । প্রদত্ত তথ্যের ভিত্ত্বিতে প্রকৃত জ্যোতিষী কারো জীবনের সম্ভাবনার কথাই শুধু বলতে পারবেন, কোন অনিবার্য কথা বলতে পারবেননা । কারন, জগতের কোন বিদ্যা, কোন শাষ্ত্র, কোন বিজ্ঞান, কোনকিছুতেই অনিবার্যতা নেই । কোন চিকিৎসক তার রোগীর অনিবার্য পরিণতির কথা বলতে পারেননা । যা বলেন তার ব্যতিক্রমও হতে দেখাযায় । আবহাওয়াবিদ যা ঘোষনা দেন তারও ব্যতিক্রম হয় । তাইবলে কোন চিকিৎসক বা আবহাওয়াবিদকে দায়ী করা যায়না । কারন, তারা যা দেখেছেন তাই বলেছেন । তারা কোন ভুল বলেননি । আর অনিবার্যভাবে তাদের ভবিষদ্বাণী ফলে যায়নি বলে কোন প্রশ্নের সম্মুখিনতো হনইনি, আর তাদের গ্রহনযোগ্যতাও হারাননি । আধুনিক জ্যোতিষবিদ্যাও তদ্রুপ ।
পরিশেষে বলব, চিকিৎসা সেবা, আবহাওয়াবিদের সেবা কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য সেবা গ্রহণ বা প্রদান যদি গুনাহের কাজ নাহয়, তবে জ্যোতিষ সেবা গ্রহন বা প্রদানে গুনাহের কাজ হওয়ার কোন যুক্তি আছেকি ? সকলেইত মানবকল্যানে কাজ করছে । কোন জ্যোতিষীর ব্যক্তিগত পাপ জ্যোতিষবিদ্যার উপর চাপানো যায়না । আশাকরি বিবেকবান মাত্রেই একথাটি বুঝবেন । আগামীতে জ্যোতিষবিদ্যা কিভাবে মানবকল্যান করে এবং তকদীর সম্পর্কে ধর্ম কি বলে সেসব বিষয় নিয়ে লিখার আশারাখি ।
******************************************
******************************************
******************************************
******************************************






যারা নিজেরা লিখতে জানেনা, অন্যের লেখা কপি করে নিজের নামে চালায় তারা চোর ছাড়া আর কি? এই সাইটের বেশিরভাগ লেখাই আমার সাইট থেকে চুরি করা। নিচের লিঙ্কে প্রমান দেখুন-
ReplyDeletehttps://shahidmridha.wordpress.com/2012/01/15/%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%BF/