মায়ের মর্ত্যে আগমন
মা দুর্গা আশ্বিন বা কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে বাপের বাড়ী মর্ত্যধামে আসেন।
আসার আগে তিনি গোছগাছ করছেন। লক্ষীকে তিনি বললেন, “তাড়াতাড়ি গুছিয়ে
নে মা,আর বেশী দেরী নেই”।লক্ষী বললেন, “আমি এবার তোমার বাপের বাড়ী যাব
না।তোমার বাপের বাড়ীর লোকেদের চাহিদা আজকাল বড্ড বেড়েছে। আগে শুধু
বলত, ‘মা টাকা দাও, পয়সা দাও, সন্তানদের নিয়ে যেন দুধে ভাতে থাকতে
পারি’।আর এখন-‘বাড়ী দাও, গাড়ী দাও, টিভি দাও, ফ্রিজ দাও, ওয়াশিং মেশিন
দাও, এয়ার কন্ডিশনার দাও, হোম থিয়েটার দাও’, আরও কত কি। গতবার এতসব
চাহিদা মেটাতে গিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে আমার প্রচুর টাকা ধার হয়ে গেছে। আমি সেই ধার শোধ না করেই কোনও রকমে পালিয়ে এসেছি। আমার কাছে খবরআছে ব্যাঙ্কের লোকেরা ধার শোধ করতে না পারলে রাস্তায় ধরে পেটায়। তাই এবার আর তোমার বাপের বাড়ীতে যাচ্ছি না”
সরস্বতীকে মা বললেন, “তবে তুই চল”। সরস্বতী বললেন, “ওরে বাবারে! তোমার
বাপের বাড়ীর বাচ্চাগুলোর পড়ার চাপ যা বেড়েছে, বলার নয়। জান, ওরা বিকেলে
খেলতেও যেতে পারে না। স্কুলে যাওয়ার সময় ওদের চেয়ে ভারী ওজনের ব্যাগ বয়ে নিয়ে যায়? আবার ফিরে এসে টিউশন ক্লাশে যেতে হয়। ওদের বাবা মায়েরা বাচ্চাদের পড়ার চোটে বেড়াতেও যেতে পারে না। মা, এবার তোমার বাপের বাড়ীতে
গেলে ঐ বাচ্চাদের মায়েরা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর ক্লাবের ছেলেগুলো তো
পড়াশুনাই করে না। পরীক্ষার আগে নোট বুক কিনে চোখ বোলায় আর বলতে থাকে-‘হে মা সরস্বতী, পাশ করিয়ে দাও।হে মা সরস্বতী, পাশ করিয়ে দাও’। এ সব
অসাধ্য সাধন আমি করতে পারব না মা”।
মা অগত্যা কার্তিককে বললেন তৈরী হতে। কার্তিক বললেন, “মা কিছু মনে কোরো
না। তোমার বাপের বাড়ীর মেয়েগুলো বড্ড গায়ে পড়া। আমাকে দেখলেই ‘কি সুইট, কিসুইট’ বলে আমার গায়ে ঢলে পড়ে আর কি! আমাকে বয় ফ্রেন্ড বানাবার সে কি প্রচেষ্টা! ওদের চক্করে পড়লে আমাকে আর কৈলাসে ফিরে আসতে হবে না”।
গনেশ তখন বললেন, “আসলে দাদা, তুই তো দেখতে সুন্দর, তাই তোকে নিয়ে
টানাটানি করে। আর আমি একবার একটা মেয়ের দিকে একটু আড়চোখে তাকিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, চুলে বয়কাট্, পরনে জীন্স আর টপ, চোখে গগল্স,ডান হাতে ঘড়ি- একটা ছেলে মার্কা মেয়ে আমাকে বলল কি জানিস, ‘লজ্জা করে না এই মুখ নিয়ে মেয়েদের দিকে তাকাতে? আগে প্লাস্টিক সার্জারি করে মুখের চেহারা পাল্টাও। আর ফিগারের কি ছিরি! সকালে উঠে খালি পেটে কপালভাতি প্রাণায়াম করতে পার না? জিমে যেতে পার না? তবে ফিগারটি একটু সুন্দর হয়। আর হলদিরামের ঘিয়ের লাড্ডু এক্কেবারেবন্ধ’। বল দাদা, বছরে একবার মামাবাড়ী যাই হলদিরামের ঘিয়ের লাড্ডু খেতে। তা ও যদি বন্ধ করতে হয়, তবে গিয়ে কি লাভ?” মহাদেব এমন সময় তপস্যা শেষে প্রবেশ করলেন। তিনি ঢুকেই বললেন, “কিসের এত
চেঁচামেচি?” ভাবলাম তপস্যা সেরে, বাড়ী গিয়ে পা ছড়িয়ে বসে একটু গাঁজায় দম
দেব, তা হওয়ার উপায় নেই”।
মা দুর্গা মহাদেবকে বললেন, “দেখ না! ওরা কেউ আমার বাপের বাড়ী যেতে
চাইছে না”।
মহাদেব- কেন? কেন?
অতঃপর মন দিয়ে সবার কথা শুনে মহাদেব মা দুর্গাকে বললেন, “ওরা তো ঠিকই
বলেছে। আমিও এবার যাচ্ছি নে। তোমার বাপের বাড়ীর লোকগুলো তো ভদ্রতাই
জানে না। আমার বেলায় দশকর্মা দোকান থেকে একটু ধেনো মদ নিয়ে এসে আমাকে
দেয় আর বলে, ‘এতস্মৈ বং কারণায় নমঃ, ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ’। এই মন্ত্র বলে বলে আমার কান পচিয়ে দেয়। আর নিজেরা, বিলিতি মদ, স্কচ্ হুইস্কি নিয়ে বসে!
আমি জামাই, আমার সঙ্গে কি না এই ব্যাবহার? আর তোমার বাপের বাড়ীর বুড়িগুলো কি ন্যাকা! কি ন্যাকা! সব সময় বলছে, ‘আমাদের বাবা মহাদেব অতি
অল্পেই তুষ্ট। শুধু বেলপাতা আর চোখের জলেই তাঁর পুজো হয়ে যায়। ওসব ছেঁদো
কথায় আর ভুলছি নে। তুমি বরং এক কাজ কর। নন্দী, ভৃঙ্গীকে নিয়ে চলে যাও”।
এমন সময় নন্দী, ভৃঙ্গী কাঁদতে কাঁদতে ঢুকে বলে, “আমরাও যাব না বাবু”।
মহাদেব বলেন, “তোদের আবার কি হল?”
নন্দী, ভৃঙ্গী বলে, “বাবু ফিরে আসার দিন মায়ের বাপের বাড়ীর লোকরা আমাদের
খেতে দেয় পান্তা ভাত আর কচু। ওগুলো কি গেলা যায়? মাকে বললে মা বলেন,
‘আমার বাপের বাড়ী গরীব, তাই যা দিয়েছে, সোনামুখ করে খেয়ে নাও। এখানে
এটা খাব না, ওটা খাব না, এসব বায়নাক্কা চলবে না”।
শুনে মহাদেব বললেন, “কি! আমার আদরের নন্দী-ভৃঙ্গীকে এত অনাদর? ছি! ছি!
ছি! ওসব কচু ঘেচু কাউকে খেতে দেয় নাকি? যাক, তবে কাউকেই যেতে হবে না”
অতঃপর মা গোসাঘরে ঢুকলেন। আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করলেন। মানভঞ্জনের পালা
চলল। ছেলেমেয়েরা ক্ষমা চাইল। নন্দী, ভৃঙ্গী কান ধরে উঠ বোস করল। তখন মর্ত্যে
আসার জন্য সবাই রাজী হল।
মা দুর্গা আশ্বিন বা কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে বাপের বাড়ী মর্ত্যধামে আসেন।
আসার আগে তিনি গোছগাছ করছেন। লক্ষীকে তিনি বললেন, “তাড়াতাড়ি গুছিয়ে
নে মা,আর বেশী দেরী নেই”।লক্ষী বললেন, “আমি এবার তোমার বাপের বাড়ী যাব
না।তোমার বাপের বাড়ীর লোকেদের চাহিদা আজকাল বড্ড বেড়েছে। আগে শুধু
বলত, ‘মা টাকা দাও, পয়সা দাও, সন্তানদের নিয়ে যেন দুধে ভাতে থাকতে
পারি’।আর এখন-‘বাড়ী দাও, গাড়ী দাও, টিভি দাও, ফ্রিজ দাও, ওয়াশিং মেশিন
দাও, এয়ার কন্ডিশনার দাও, হোম থিয়েটার দাও’, আরও কত কি। গতবার এতসব
চাহিদা মেটাতে গিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে আমার প্রচুর টাকা ধার হয়ে গেছে। আমি সেই ধার শোধ না করেই কোনও রকমে পালিয়ে এসেছি। আমার কাছে খবরআছে ব্যাঙ্কের লোকেরা ধার শোধ করতে না পারলে রাস্তায় ধরে পেটায়। তাই এবার আর তোমার বাপের বাড়ীতে যাচ্ছি না”
সরস্বতীকে মা বললেন, “তবে তুই চল”। সরস্বতী বললেন, “ওরে বাবারে! তোমার
বাপের বাড়ীর বাচ্চাগুলোর পড়ার চাপ যা বেড়েছে, বলার নয়। জান, ওরা বিকেলে
খেলতেও যেতে পারে না। স্কুলে যাওয়ার সময় ওদের চেয়ে ভারী ওজনের ব্যাগ বয়ে নিয়ে যায়? আবার ফিরে এসে টিউশন ক্লাশে যেতে হয়। ওদের বাবা মায়েরা বাচ্চাদের পড়ার চোটে বেড়াতেও যেতে পারে না। মা, এবার তোমার বাপের বাড়ীতে
গেলে ঐ বাচ্চাদের মায়েরা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর ক্লাবের ছেলেগুলো তো
পড়াশুনাই করে না। পরীক্ষার আগে নোট বুক কিনে চোখ বোলায় আর বলতে থাকে-‘হে মা সরস্বতী, পাশ করিয়ে দাও।হে মা সরস্বতী, পাশ করিয়ে দাও’। এ সব
অসাধ্য সাধন আমি করতে পারব না মা”।
মা অগত্যা কার্তিককে বললেন তৈরী হতে। কার্তিক বললেন, “মা কিছু মনে কোরো
না। তোমার বাপের বাড়ীর মেয়েগুলো বড্ড গায়ে পড়া। আমাকে দেখলেই ‘কি সুইট, কিসুইট’ বলে আমার গায়ে ঢলে পড়ে আর কি! আমাকে বয় ফ্রেন্ড বানাবার সে কি প্রচেষ্টা! ওদের চক্করে পড়লে আমাকে আর কৈলাসে ফিরে আসতে হবে না”।
গনেশ তখন বললেন, “আসলে দাদা, তুই তো দেখতে সুন্দর, তাই তোকে নিয়ে
টানাটানি করে। আর আমি একবার একটা মেয়ের দিকে একটু আড়চোখে তাকিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, চুলে বয়কাট্, পরনে জীন্স আর টপ, চোখে গগল্স,ডান হাতে ঘড়ি- একটা ছেলে মার্কা মেয়ে আমাকে বলল কি জানিস, ‘লজ্জা করে না এই মুখ নিয়ে মেয়েদের দিকে তাকাতে? আগে প্লাস্টিক সার্জারি করে মুখের চেহারা পাল্টাও। আর ফিগারের কি ছিরি! সকালে উঠে খালি পেটে কপালভাতি প্রাণায়াম করতে পার না? জিমে যেতে পার না? তবে ফিগারটি একটু সুন্দর হয়। আর হলদিরামের ঘিয়ের লাড্ডু এক্কেবারেবন্ধ’। বল দাদা, বছরে একবার মামাবাড়ী যাই হলদিরামের ঘিয়ের লাড্ডু খেতে। তা ও যদি বন্ধ করতে হয়, তবে গিয়ে কি লাভ?” মহাদেব এমন সময় তপস্যা শেষে প্রবেশ করলেন। তিনি ঢুকেই বললেন, “কিসের এত
চেঁচামেচি?” ভাবলাম তপস্যা সেরে, বাড়ী গিয়ে পা ছড়িয়ে বসে একটু গাঁজায় দম
দেব, তা হওয়ার উপায় নেই”।
মা দুর্গা মহাদেবকে বললেন, “দেখ না! ওরা কেউ আমার বাপের বাড়ী যেতে
চাইছে না”।
মহাদেব- কেন? কেন?
অতঃপর মন দিয়ে সবার কথা শুনে মহাদেব মা দুর্গাকে বললেন, “ওরা তো ঠিকই
বলেছে। আমিও এবার যাচ্ছি নে। তোমার বাপের বাড়ীর লোকগুলো তো ভদ্রতাই
জানে না। আমার বেলায় দশকর্মা দোকান থেকে একটু ধেনো মদ নিয়ে এসে আমাকে
দেয় আর বলে, ‘এতস্মৈ বং কারণায় নমঃ, ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ’। এই মন্ত্র বলে বলে আমার কান পচিয়ে দেয়। আর নিজেরা, বিলিতি মদ, স্কচ্ হুইস্কি নিয়ে বসে!
আমি জামাই, আমার সঙ্গে কি না এই ব্যাবহার? আর তোমার বাপের বাড়ীর বুড়িগুলো কি ন্যাকা! কি ন্যাকা! সব সময় বলছে, ‘আমাদের বাবা মহাদেব অতি
অল্পেই তুষ্ট। শুধু বেলপাতা আর চোখের জলেই তাঁর পুজো হয়ে যায়। ওসব ছেঁদো
কথায় আর ভুলছি নে। তুমি বরং এক কাজ কর। নন্দী, ভৃঙ্গীকে নিয়ে চলে যাও”।
এমন সময় নন্দী, ভৃঙ্গী কাঁদতে কাঁদতে ঢুকে বলে, “আমরাও যাব না বাবু”।
মহাদেব বলেন, “তোদের আবার কি হল?”
নন্দী, ভৃঙ্গী বলে, “বাবু ফিরে আসার দিন মায়ের বাপের বাড়ীর লোকরা আমাদের
খেতে দেয় পান্তা ভাত আর কচু। ওগুলো কি গেলা যায়? মাকে বললে মা বলেন,
‘আমার বাপের বাড়ী গরীব, তাই যা দিয়েছে, সোনামুখ করে খেয়ে নাও। এখানে
এটা খাব না, ওটা খাব না, এসব বায়নাক্কা চলবে না”।
শুনে মহাদেব বললেন, “কি! আমার আদরের নন্দী-ভৃঙ্গীকে এত অনাদর? ছি! ছি!
ছি! ওসব কচু ঘেচু কাউকে খেতে দেয় নাকি? যাক, তবে কাউকেই যেতে হবে না”
অতঃপর মা গোসাঘরে ঢুকলেন। আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করলেন। মানভঞ্জনের পালা
চলল। ছেলেমেয়েরা ক্ষমা চাইল। নন্দী, ভৃঙ্গী কান ধরে উঠ বোস করল। তখন মর্ত্যে
আসার জন্য সবাই রাজী হল।






No comments:
Post a Comment